সিকিম যাবার পারমিশন কিভাবে নিবেন বিস্তারিত পোস্ট

সিকিমের অনুমতি

আপনারা জানেন দীর্ঘদিন বন্ধের পর সিকিম গ্যাংটকে ভ্রমণের সুযোগ এসেছে বাংলাদেশীদের হাতে তবে সিকিম যেতে হলে বাংলাদেশীদের স্পেশাল পার্মিশন নিতে হয় ।। সেই পারমিশন আপনি তিনটি উপায়ে নিতে পারবেন

১/ বাংলাদেশের ভারতীয় ভিসা সেন্টার থেকে
২/শিলিগুড়ি থেকে
৩/সিকিম প্রবেশ করার গেট থেকে

আমরা তিনটি উপায়ই ভিন্ন ভিন্নভাবে আলোচনা করছি

বাংলাদেশের ভারতীয় ভিসা সেন্টার থেকে :   আপনি চাইলে ভ্রমণের পূর্বেই বাংলাদেশের ভারতীয় ভিসা সেন্টার থেকে সিকিম ভ্রমণের অনুমতি নিয়ে নিতে পারেন এজন্য আপনাকে এই ফর্মটি ডাউনলোড করে কলম দিয়ে লিখে পূরণ করতে হবে ফর্মটি ডাউনলোড লিংক               সঠিকভাবে পূরণ করে রবি টু বৃহষ্পতিবার সরাসরি গিয়ে জমা দিয়ে আসবেন এক্ষেত্রে ফী লাগবে ৩০০ টাকা ।। মুলত সাত দিনের মধ্যেই অনুমতি পাওয়া যায় যাবার ।।

শিলিগুড়ি থেকে : আপনি চাই্লে বাংলাদেশ থেকে অনুমতি না নিয়ে শিলিগুড়ি থেকেও তাৎক্ষণিক অনুমতি নিতে পারেন এক্ষেত্রে সুবিধা হলো কোন টাকা লাগবেনা কোন ফর্মও পূরণ করতে হবেনা শুধুমাত্র আপনার পাসপোর্ট ও তার ফটোকপি ,ভিসার ফটোকপি এবং আপনার দুইকপি পাসপোর্ট /ভিসা সাইজের ছবি দিলেই সাথেসাথে আপনাকে অনুমতি দিয়ে দিবে ।। সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এখানে অনুমতি দিয়ে থাকে ৫টার পর শিলিগুড়ি অনুমতি অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয় । শিলিগুড়িতে সিকিম ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট (SNT Bus Terminus) বাস টার্মিনালের কাছে SNT কলোনিতে সিকিম ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন সেন্টার অবস্থিত। সেখান থেকেই অনুমতি দেওয়া হয় পুরো ঠিকানা হলো SIKKIM TOURIST INFORMATION CENTRE, SNT COLONY, HILL CART ROAD, SILIGURI.

সিকিম গেইট থেকে  : আপনি চাইলে শিলিগুড়ি থেকে না নিয়ে সিকিম ঢুকার রাঙ্গপো চেকপোস্ট থেকেও তাৎক্ষণিক অনুমতি নিতে পারবেন এক্ষেত্রেও কোন টাকা লাগবেনা এবং ফর্মও পুরণ করতে হবেনা শুধুমাত্র আপনার পাসপোর্ট ও তার ফটোকপি ,ভিসার ফটোকপি এবং আপনার দুই কপি পাসপোর্ট /ভিসা সাইজের ছবি দিলেই সাথে সাথে আপনাকে অনুমতি দিয়ে দিবে । সিকিম গেট থেকে আপনি অনুমতি নিতে পারবেন সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত তবে ট্যুরিস্টদের ভিড় থাকলে যতক্ষণ পর্যন্ত প্রয়োজন ততক্ষণ সিকিমের এই অনুমতি অফিসটি খোলা থাকে সেটা যদি রাত দশটাও হয় খোলা থাকবে ।।

সকল দিক বিবেচনায় বাংলাদেশ থেকে অনুমতি নেওয়াটা বোকামিই বলা চলে একেতো ৩০০ টাকা ফী লাগে তার উপরে অনুমতি নিতে সাতদিন লাগে এবং ঢাকাতে কোথাও যাওয়া আসাটাও একটা প্যারার ব্যাপার তাই আপনারা শিলিগুড়ি বা সিকিম গেইট মানে রাঙ্গপো চেক পোস্ট থেকে অনুমতি নিবেন যাতে কোন টাকা লাগেনা এবং দশ পনের মিনিটের মধ্যে পারমিশন হয়ে যায় 🙂 তবে হ্যাঁ যাদের সরকারী অফিসিয়াল পাসপোর্ট তারা কিন্তু বাংলাদেশ থেকেই অনুমতি নিয়ে যেতে হবে রাঙ্গপো বা সিকিম গেইট থেকে অনুমতি পাবেন না ।। সরকারী অফিসিয়াল পাসপোর্ট ধারীদের বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা সেন্টার থেকে অনুমতি নিতে হবে এবং এতে প্রায় এক মাস সময় লাগে অনুমতি পেতে ।

সিকিম থেকে বের হবার সময় একইভাবে আপনাকে এন্ট্রি ফর্ম দেখিয়ে এক্সিট করে আসতে হবে ।। এক্ষেত্রে বলে দেই এন্ট্রি এবং এক্সিটে সবাইকে যেতে হয়না যেকোন একজন সবার পাসপোর্ট ও তার কপি ,ভিসার কপি ও ফটো সহ জমা দিলেই চলে 🙂 বাকীরা অফিসের বাইরে বা গাড়ীতে বসে থাকলেই হয় ।।

 

আশা করি অনুমতির বিষয়টি পুরোপুরি ক্লিয়ার 🙂 তারপরও কোন প্রশ্ন থাকলে আমাকে করতে পারেন 🙂

  • Tags

ভারতীয় ভিসার জন্য কি কি কাগজপত্র লাগে জেনে নিন

অনেকেই জানতে চায় ভারতীয় ভিসার জন্য কি কি কাগজপত্র লাগে সেজন্য ছোট্র একটি ব্লগ লিখে ফেললাম সবার সুবিধার জন্য ।।

ভারতীয় ভিসার যা যা লাগবে :

১/ অনলাইনে পুরণকৃত ফর্ম , http://www.ivacbd.com এই লিংকে গিয়ে অনলাইন ভিসার জন্য ফর্ম পুরণ করতে হবে এবং এটিকে প্রিন্ট করে নিতে হবে ।।

২/ দুই বাই দুই ইন্জি ছবি লাগবে যার ব্যাকগ্রাউন্ড হতে হবে সাদা ।। এই ছবিটি অনলাইন ফর্ম পুরণের সময়ও দিতে হবে এবং অনলাইন ফর্ম প্রিন্ট করার পরও আঠা দিয়ে ফর্মে লাগিয়ে দিতে হবে ।। যতটা সম্ভব সাম্প্রতিক ছবি দিবেন

৩/ আপনার বর্তমান ঠিকানা প্রমাণের জন্য বিদ্যুৎ /গ্যাস /বা যেকোন ইউটিলিটি বিলের ফটোকপি । এখানে বাবার নাম বা কারো নাম ফ্যাক্ট নয় জাস্ট বর্তমান ঠিকানাটা থাকলেই হবে ।। তিন মাসের বেশি পুরাতন ইউটিলিটি বিলের কপি দিবেন না ।।

৪/ পাসপোর্ট এবং পাসপোর্টের ফটোকপি

৫/ এনআইডি অথবা জন্মসনদ ,পাসপোর্ট যেটা দিয়ে করেছেন সেটার ফটোকপি দিবেন

৬//ছাত্র হলে আইডি কার্ডের ফটোকপি আর চাকুরিজীবি হলে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট সংক্ষেপে NOC আর ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স এর ফটোকপি ।

৭/ডলার এন্ড্রসমেন্ট করতে হবে ব্যাংক থেকে ( মানি এক্সচেন্জার থেকে করলে সেটা এম্বেসীতে গ্রহণযোগ্য হবেনা ,.ব্যাংক থেকেই করতে হবে ) সর্বনিম্ন ১৫০ ডলার ,এন্ড্রসমেন্ট করার পর একটা কাগজ দিবে সেটার মুলকপি

অথবা আপনি আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্টও জমা দিতে পারেন সেক্ষেত্রে বিগত ছয়মাস ধরে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা একাউন্টে থাকতে হবে ।

ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ডলার এন্ড্রোসমেন্ট যেকোন একটি দিবেন ।

ভিসা ফী ৮০০ টাকা যা এম্বেসীতে প্রবেশের পূর্বে পরিশোধ করে ভিতরে ঢুকতে হবে এম্বেসির  বাইরে অনেক দোকান আছে যার মাধ্যমে জমা দিতে পারবেন অথবা চাইলে ইউক্যাশ অথবা অনলাইনে নিজের বিকাশ বা ব্যাংক একাউন্ট দিয়েও দিতে পারবেন । অনলাইনে দিতে চাইলে এই লিংকটির মাধ্যমে জমা দিতে পারবেন https://payment.ivacbd.com

ভিসা সংক্রান্ত কিছু প্রশ্ন এবং তার উত্তর :

প্রশ্ন : ভিসা সেন্টার কবে এবং কয়টা থেকে কয়টা খোলা থাকে ?

দেশের সকল ভারতীয় ভিসা সেন্টার সকাল আটটা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত খোলা থাকে এ সময়ের মাঝে আপনার ভিসা জমা দিতে হবে অবশ্যই ।। এবং সকল ভিসা সেন্টার শুক্র এবং শনিবার বন্ধ থাকে বাকী ৫ দিন খোলা থাকে ।।

প্রশ্ন : জমা দেবার পর ভিসা পেতে কতদিন লাগে ?

ভিসা সেন্টারে কাগজপত্র জমা দেবার পর ৭-১০ দিন সময় লাগে ভিসা পেতে ,আপনি যখন কাগজপত্র জমা দিবেন তখনই আপনাকে জানিয়ে দিবে কবে পাসপোর্ট এসে ফেরত নিয়ে যাবেন ।।

প্রশ্ন : আমি নিজে না গিয়ে কি ভিসার আবেদন জমা করতে পারবো অন্য কাউকে দিয়ে ?

পারবেন তবে সবাই পারবেনা ।। স্বামী তার ওয়াইফেরটা ,ওয়াইফ তার স্বামীরটা ,সন্তান তার  বাবা মায়েরটা ,বাবা মা তার সন্তানের ভিসার আবেদন জমা এবং উত্তোলন করতে পারবে ।। এছাড়া আর কেউ জমা বা উত্তোলন করতে পারবেনা ।।

প্রশ্ন : আমার কাছে মেসেজ এসেছে আমি কি ভিসা পেয়েছি ?

-ডেলিভারী মেসেজ আসা মানে আপনার পাসপোর্টটি ভিসা সেন্টার থেকে ডেলিভারী দেবার জন্য রেডি  এর সাথে ভিসা পেয়েছেন নাকি পাননি এর কোন সম্পর্ক নেই । আগে থেকে বলা যায়না আপনি ভিসা পেয়েছেন নাকি পাননি আপনি যখন পাসপোর্টটি হাতে পাবেন তখন নিজেই দেখতে পারবেন ভিসা দিয়েছে নাকি দেয়নি এর আগে কোনভাবেই জানতে পারবেন না ভিসা পেয়েছেন নাকি পাননি ।।

প্রশ্ন : পাসপোর্ট/ভিসা ডেলিভারীর সময় কি আমি ছাড়া অন্য কেউ নিয়ে আসতে পারবে ?

না আপনার নিজেরই যেতে হবে অন্য কাউকে দিয়ে আনতে পারবেন না ,তবে জমা দেবার মতোই স্বামী তার স্ত্রীরটা ,স্ত্রী তার স্বামীরটা ,সন্তান তার  বাবা মায়েরটা ,বাবা মা তার সন্তানের ভিসা/পাসপোর্ট ডেলিভারী আনতে পারবে ।।

প্রশ্ন : আমার ডেলিভারী ডেইট অমুক তারিখ কিন্তু আজকেই মেসেজ চলে আসছে আমি কি আজকে গেলে পাসপোর্ট ফেরত পাবো এম্বেসী থেকে ?

না ,আপনার স্লিপে যে তারিখ লেখা আছে সে তারিখেই আপনাকে যেতে হবে এর আগে মেসেজ আসলেও এম্বেসীতে গেলে আপনি পাসপোর্ট ফেরত পাবেন না ,স্লিপে যে তারিখ লেখা আছে সে তারিখে বা সে তারিখের পরে যেকোন দিন গেলেই হবে ।।

প্রশ্ন : ডেলিভারী ডেট চলে আসছে কিন্তু কোন মেসেজ পাইনি কি করবো ?
-আপাতত দুই একদিন অপেক্ষা করে মেসেজের জন্য অপেক্ষা করুন যদি ডেলিভারী ডেটের দুই একদিন পরেও মেসেজ না পান তাহলে এম্বেসীতে গিয়ে যোগাযোগ করুন ।।

প্রশ্ন : ভিসা ফর্ম পুরণ করার সময় ভারতীয় রেফারেন্স কি দিবো ?

আপনি যেখানে যাবেন সেই জায়গায় কোন হোটেলের এড্রেস গুগল করে বের করে ওটাই রেফারেন্স হিসেবে দিবেন ।।এটা জাস্ট দেওয়ার জন্য দেওয়া 🙂

প্রশ্ন : আমার ওয়াইফতো হাউজওয়াইফ সেক্ষেত্রে জব ডিটেইলস বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট কি দিবো ?

সেক্ষেত্রে ফর্মে হাউজওয়াইফ পুরণ করে স্বামীর জব ডিটেইলস দিয়ে দিবেন । স্ত্রীর ব্যাংক একাউন্ট না থাকলে স্বামীর ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিবেন তবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট না দিয়ে ডলার এন্ড্রোস জমা দিতে চাইলে স্বামী স্ত্রী দুইজনেরই ডলার এন্ড্রোস করতে হবে ।

প্রশ্ন : আমিতো স্টুডেন্ট ব্যাংক স্টেটমেন্ট নাই

সেক্ষেত্রে বাবা অথবা মায়ের ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে পারবেন অথবা ডলার এন্ড্রোস করে নিতে পারেন

প্রশ্ন : ব্যাংক স্টেটমেন্ট নেবার পর কতদিন পর্যন্ত জমা দেওয়া যায়

যেদিন ব্যাংক স্টেটমেন্ট নিবেন তার সর্বোচ্চ ১৫দিন পর্যন্ত এর ভ্যালিডিটি থাকে মানে ১৫দিনের মাঝে জমা দিতে পারবেন এরপর হলে আবার নতুন করে ব্যাংক স্টেটমেন্ট নিতে হবে । আর এন্ড্রোস করলে তার মেয়াদ একমাস পর্যন্ত থাকে ।।

প্রশ্ন : অনলাইনে ফর্ম পুরণ করার পর কতদিন পর্যন্ত জমা দেওয়া যায় ?

যেদিন ফর্ম পুরণ করবেন তার তিনদিন পর্যন্ত তার ভ্যালিডিটি থাকে তাই ফর্ম পুরণ করার তিনদিনের মাঝে জমা দিবেন অবশ্যই না হয় আবার নতুন করে ফর্ম পুরণ করতে হবে

প্রশ্ন : আমাকে কতদিনের ভিসা দিবে ?

উত্তর : আপনাকে কত দিনের ভিসা দিবে এটা সম্পূর্ণ ভারতীয় ভিসা সেন্টারের বিষয় এটা আগে থেকে কেউ বলতে পারেনা ।আপনি আবেদন করবেন ১ বছরের জন্যই কিন্তু ভিসা সেন্টার তার মর্জি মতো ৩মাস ,৬মাস বা এক বছরের ভিসা দিতে পারেইটি সম্পুর্ন ভিসা সেন্টারের এখতিয়ার আমার বা আপনার কিছু করার নেই ।।

প্রশ্ন : আমাকে ভিসা দিলোনা কেন ? সব কাগজপত্রতো ঠিক ছিলো 
উত্তর : সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও কেন ভিসা দেয়না সেটা ভারতীয় ভিসা সেন্টার কখনোই বলেনা এটা ওদের মন মর্জির উপরে নির্ভর করে তাই কেন রিজেক্ট করা হইছি তার কোন কারণ নেই ।। বা সেটা জানারও কোন সিস্টেম নেই

প্রশ্ন : ডলার এন্ড্রোসমেন্ট নাকি ব্যাংক স্টেটমেন্ট ভালো ভিসার জন্য ?

ভালো মন্দ এখানে কোনটাই নেই দুইটাই ভালো ,আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট থাকলে সেটা দিয়ে ভিসার আবেদন করুন না থাকলে ডলার এন্ড্রোসমেন্ট করে সেটা দিয়ে আবেদন করুন ব্যাস সিম্পল ।

প্রশ্ন : ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিয়ে ভিসা করেছি এখন কি ভারতে যাবার সময় ডলার এন্ড্রস করতে হবে ?

-আপনি ব্যাংক স্টেটমেন্ট দিয়ে ভিসা করলে ভারত বা বিদেশের যেকোন দেশে যাবার সময় ডলার এন্ড্রোস করে ডলার নিয়ে যেতে হবে এটাই বৈধ উপায় । ব্যাংক স্টেটমেন্ট শুধুমাত্র ভিসা নেবার ক্ষেত্রে কাজে লাগে বাইরের দেশে ডলার নিয়ে যেতে হলে নিয়মানুযায়ী অবশ্যই ডলার এড্রোস করে নিতে হয় যেকোন ব্যাংক অথবা মানি এক্সচেন্জার থেকে ,মানি এক্সচেন্জার জেলা সদর বা ঢাকা শহরের যেকোন জায়গায়ই আছে খোজলেই পাবেন ।।

প্রশ্ন : দেশের বাইরে যাবার সময় আমি কত ডলার বা কত রুপি বা কত টাকা সাথে নিতে পারবো 

উত্তর : বাংলাদেশ সরকারের নিয়মানুযায়ী আপনি ১০ হাজার বাংলাদেশী টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার এন্ড্রোস করে সাথে নিয়ে যেতে পারবেন তবে বৈধভাবে বা সরকারী নিয়মে আপনি রুপি নিয়ে যেতে পারবেন  তবে অনেকেই লুকিয়ে বা ব্যাগের ভিতরে করে  রুপি নিয়ে যায় সেটা তাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত বিষয় এ বিষয়ে আমাদের কিছু বলার নেই ।

প্রশ্ন : বর্ডারে কি এনওসি দেখাতে হয় ?

-জ্বি এনওসির একটি কপি বাংলাদেশ পুলিশ দেখতে চাইবে যদি আপনি এনওসি দিয়ে ভিসা করিয়ে থাকেন তাহলে এক কপি এনওসি ফটোকপি সাথে রাখবেন

কারো কোন প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন 🙂

  • Tags

শিলং ভ্রমণের গাইডলাইন

শিলং কে বলা হয় প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড ।। সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়েই এই নামের বিশেষণে ভুষিত করা হয়েছিলো শিলং কে । শিলং পাহাড়ী সৌন্দর্য্যের এক লীলাভুমি । পাহাড়ের ভাজে ভাজে ঝর্ণার সৌন্দর্য্যের টানে প্রতি বছর হাজারো পর্যটক আসে এই শিলংকে দেখতে ।। আজকে আমি শিলং ভ্রমণের গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করবো ।

শিলং যাবার উপযুক্ত সময় কখন ?

শিলং যেহেতু পাহাড়র আর ঝর্ণার স্বর্গ সেহেতু শিলং যাবার শ্রেষ্ট সময় হচ্ছে বর্ষায় এসময় ঝর্ণাগুলো তার ভরা যৌবনের রুপ নিয়ে হাজির হয় । সে হিসে জুই জুলাই আগস্ট এ তিন মাস সেরা সময়ই বলা যায় তবে বর্ষার শেষের দিকে যেমন সেপ্টেম্বর অক্টোবরেও কিন্তু শিলং ঘুরে বেড়ানোর উপযুক্ত সময় এ সময় আকাশ পরিষ্কার থাকে আর ঝর্ণাগুলোতেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় ।। নভেম্বর ডিসেম্বরেও ঘুরতে পারেন তবে সেক্ষেত্রে ডাউকি সোনাংপেডাং ভিলেজে স্বচ্ছ পানি পাবেন তবে অন্যান্য ঝর্ণাতে খুব একটা পানি পাবেন না ।

শিলং যাবো কিভাবে :

শিলং যাবার জন্য সবচেয়ে ভালো বর্ডার হচ্ছে তামাবিল ডাউকি বর্ডার যা সিলেটে অবস্হিত । শিলং যাওয়াটা খুবই সহজ ,ঢাকা থেকে শ্যামলী হানিফ ইউনিক এনা গ্রিন লাইন লন্ডন এক্সপ্রেস যেকোন বাসে চলে যান সিলেটে সেখান থেকে একটা সিএনজি নিয়ে যেতে হবে জৈন্তাপুরের তামাবিল বর্ডারে । বর্ডার পার হয়ে ওপারে ছোট বড় গাড়ী পাবেন দুই থেকে তিন ঘন্টা সময় লাগবে একদম শিলং শহর পর্যন্ত ।

যারা বাই এয়ারে যেতে চান তাদের জন্য সরাসরো কোন ফ্লাইট নেই ঢাকা থেকে ,সেক্ষেত্রে ঢাকা থেকে কলকাতা তারপর সেখান থেকে গোহাটি এয়ারপোর্ট তারপর তিন ঘন্টার রাস্তা গোহাটি টু শিলং ।।

থাকবো কোথায় :

শিলং এ থাকতে পারেন পুলিশ বাজারে ,পুলিশ বাজার এবং এর আশেপাশেই গড়ে উঠেছে প্রচুর সংখ্যক হোটেল দেখেশুনে যেকোন একটাতে উঠে যেতে পারেন ।। এছাড়াও বিভিন্ন ট্যুরিস্ট স্পট যেমন চেরাপুন্জি এসব জায়গায়ও থাকার জায়গা রয়েছে তবে ভ্রমণে সুবিধা ও শপিং এর জন্য অধিকাংশ পর্যটক পুলিশ বাজারেই অবস্হান করে । বুকিং অনলাইনে দিতে পারেন যদি খুব রাশ সিজনে যান আর যদি নরমাল সময়ে যান গিয়েও হোটেল দেখে শুনে উঠতে পারেন তবে ফ্যামিলি নিয়ে গেলে আগে থেকে হোটেল বুক করে যাবার চেষ্টা করবেন । কাপল রুম হোটেল ভেদে ১৫০০-২৫০০ রুপির মধ্যে পাবেন । একটা কথা মনে রাখবেন তুলনামুলক হিসেবে শিলং এর হোটেল প্রাইচ একটু বেশিই মনে হয়েছে আমার কাছে ।

ঘুরে বেড়ানোর প্লানটা কেমন হতে  পারে ?

শিলং এ ঘুরে বেড়ানোর জন্য একটা স্প্যাম্পল ট্যুর প্লান করে দিলাম এটা ফলো করতে পারেন নিজের পছন্দমত কাস্টমাইজও করে নিতে পারেন 🙂

রাতের বাসে ঢাকা থেকে রওয়ানা হলে ভোরে সিলেট নামিয়ে দিবে সেখান থেকে একটা সিএনজি নিয়ে চলে যাবেন তামাবিল বর্ডারে 🙂 বর্ডারের সকাল কাজ শেষ করে গাড়ী রিজার্ভ করবেন এবং গাড়ীকে বলবেন যাবার সময় উমক্রেম ফলস ,বড়হিল ফলস (সিলেট থেকে যেটা দেখা যায়) ও পরিচ্ছন্ন গ্রাম ও রুট লিভিং ব্রিজ দেখে তারপর যাবেন। সবগুলো দেখে শিলং পৌছাতে পৌছাতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে 🙂 তবে বর্ডারে বেশি দেরি হয়ে গেলে কোন কারণে সেক্ষেত্রে কোন না কোন স্পট বাদ দিতে হবে না হয় সন্ধ্যার মধ্যে শিলং পৌছাতে পারবেন না ।।

দ্বিতীয় দিন সকালে উঠে গাড়ী নিয়ে ঘুরে দেখতে পারেন চেরাপুন্জির এর এই স্পট গুলো চেরাপুন্জি ভিউ পয়েন্ট , Nohkalikai falls,এলিফেন্ট ফলস,মৌসমি কেইভ,পার্ক,সেভেন সিস্টার ফলস ইত্যাদি । সবগুলো দেখে আবার শিলং  আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে ।

তৃতীয় দিন যেতে পারেন সকালে উঠেই লাইটলুম ,খুবই সুন্দর জায়গা ভিডিওটি দেখতে  পারেন ধারণা পাবেন https://www.youtube.com/watch?v=TMo6eMukjAs& লাইটলুম ঘুরে এসে দেখতে  পারেন লেক ,ডন ভসকো মিউজিয়াম ,উমিয়াম লেক ইত্যাদি । এগুলো দেখে বিকালের মধ্যেই ফিরে আসতে  পারবেন হোটেলে ।। বাকী সময়টা শপিংয়ে কাটিয়ে দিতে  পারেন 🙂

চতুর্থ দিন উঠে প্রথমে যাবেন কারাংসুরি ফলস (পোস্টের ছবির ঝর্ণাটি ) কারাংসুরি জম্পেশ গোসল দিয়ে সেখান থেকে মাত্র এক ঘন্টা লাগে চলে আসবেন সোনাংপেডাং ভিলেজ এ এখানে সব দেখে চাইলে নৌকা নিয়ে নদীতে ঘুরতে পারেন গোসল করতে পারেন সোনাং পেডাং এর নদীটিই বাংলাদেশের জাফলং দিয়ে প্রবেশ করেছে 🙂 বিকাল নাগাদ সোনাংপেডাং এ কাটিয়ে সোনাংপেডাং থেকে মাত্র আধাঘন্টা দুরেই ডাউকি তামাবিল বর্ডার হয়ে বের হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে সিলেট থেকে রাতের বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা ও পরদিন ভোরে এসে ঢাকা নামবেন 🙂

এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যায় যে যারা ট্রেকিং পছন্দ করেন তারা একদিন বাড়িয়ে ঘুরে আসতেন পারেন নংরিয়াত ভিলেজে অথবা চাইলে তৃতীয় দিনের সাইটসিন বাদ দিয়েও এখানে যেতে পারেন এবং সেখানে পাবেন ন্যাচারল সুইমিং পুল এবং ডাবল ডেকার রুট লিভিং ব্রিজ তবে এখানে পুরো একদিন লাগবে ভোরে শিলং থেকে রওয়ানা হয়ে সারাদিন ঘুরে আবার সন্ধ্যায় শিলং ফিরতে পারবেন 🙂 https://www.youtube.com/watch?v=YzSAneMSP18& ভিডিওটি দেখুন ধারণা পাবেন 🙂

আশা করি শিলং প্লান সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা পেয়ে যাবেন তারপরও কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টস করুন।

Facebook
YouTube