ঝর্ণাতে বা পাহাড়ে যাবার সময় কেমন প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়া উচিত বিস্তারিত গাইডলাইন

বর্ষাকে কেন্দ্র করে ভ্রমণ পিপাসু মানুষ প্রতিনিয়ত ঝর্ণার মোহনীয় রুপে মুগ্ধ হতে বের হয়ে যায় কিন্তু ঝর্ণা দেখতে গেলে নিতে হয় একটু ভিন্ন করে প্রস্তুতি 🙂 ভালো প্রস্তুতি ঝর্ণা দেখার কষ্টটা বা ট্রেকিং এ কষ্টটা অনেক কমিয়ে দেয় আর কমফোর্ট দেয় 🙂 স্বপ্নযাত্রার সবসময়ই ঝর্ণাতে ঘুরতে যাবার ইভেন্ট থাকে তাই সবার জন্য একটা ভালো গাইডলাইন লেখার চেষ্টা করলাম 🙂 আশা করি কেউ হেলাফেলা না করে এগুলো ভালো করে ফলো করার চেষ্টা করবেন

  • প্রথমেই যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন সেটা হলো জুতা ,যেহেতু আপনার পুরো শরীরের ভারটা পাঁয়ের উপরে থাকে সেহেতু ভালো মানের গ্রিপ সম্পন্ন জুতা মানেই হাটার সময় ভালো কনফিডেন্স আর পিছলে যাবার সম্ভবনা কম 🙂 তাই জুতা কিনবেন প্রথমত পানিতে ভিজলেও কিছু হয়না এবং জুতার নীচে ভালো গ্রিপ সম্পন্ন জুতা ।। এপেক্স ও বাটাতে এমন বেশ কিছু সুন্দর জুতা আছে এমন তবে দামটা একটু বেশি ১২০০-২০০০ এর মধ্যে  সেক্ষেত্রে প্লাস্টিকের বেল্টওয়ালা বেশ কিছু জুতা পাবেন খুব সস্তায় ১২০-১৫০ টাকার মধ্যে এগুলোও সস্তার মধ্যে বেশ কাজে দেয় 🙂 ফুটপাতে বা ছোট খাট জুতার দোকানে এসব জুতাপাবেন ।। এগুলো হলো সস্তায় সেরা সমাধান 🙂
  • এবার আসি কাপড়ের বেলায় যতটা সম্ভব হালকা কাপড় চোপড় পড়বেন ছেলেরা টিশার্ট সাথে থ্রিকোয়ার্টার পড়তে পারেন এক্ষেত্রে ভারী কাপড় পড়বেন না এগুলো ভিজলে সহজে শুকায়না সারাক্ষণ ভিজা ভিজা থাকে জার্সি টাইপ পড়বেন এগুলো দ্রুত শুকায় 🙂 এছাড়া ট্রাভেলারদের কিছু প্যান্ট আছে পলিষ্টারের এগুলো হলো বেস্ট সলিউশন এক্ষেত্রে  ।। নারীদের ক্ষেত্রে সেলোয়ার অবশ্যই এভোয়েড করবেন না হয় বিব্রতকর পরিস্হিতে পড়বেন জিন্স বা গ্যাভাডিং বা পলিষ্টারের ট্রাভেলার্স কিছু প্যান্ট আছেসেগুলো পড়বেন আর সাথে মোটা গেন্জি বা জিন্সের শার্ট বা টিশার্ট পড়তে পারেন 🙂
  • এবার আসি খাবার নিয়ে ট্রেকিং বা ঝর্ণা দেখতে যাবার সময় দেখা যাক লম্বা সময় কোন ভারী খাবার খাওয়ার সুযোগ থাকেনা তাই এমন খাবার খেতে হয় যেটা ক্যারি করা ইজি এবং শরীরে প্রচুর এনার্জি দিতে পারবে এক্ষেত্রে মিষ্টি জাতীয় খাবার আপনাকে সবচেয়েবেশি সাপোর্ট দিবে যেমন খেজুর ,চকলেট ,মিষ্টি ,চুইংগাম এসব সাথে রাখবেন আর ছোট ছোট বিস্কিটের প্যাকেটও সাথে রাখতে পারেন আর সবচেয়ে জরুরী হলো পানি ..পানি অবশ্যই সাথে রাখবেন আর এর সাথে স্যালাইন বা গ্লুকোজ নিয়ে নিবেন মিশিয়ে খাবেন প্রচুর এ্যানার্জি আসবে শরীরে 🙂 পানিটা কিন্তু সবচেয়ে জরুরী 🙂
  • অনেক সময় বৃষ্টি নামে বা ঝর্ণাতে ভিজার পর ভিজা কাপড় থাকে সেজন্য এক্সটা পলিথিন নিয়ে নিবেন সাথে যেন ব্যাগে পলিথিনে ভিজা কাপড় রাখতে পারেন আর হুট হাট বৃষ্টি থেকে ইলেকট্রিক ডিভাইস বা মোবাইল বাঁচাতে পলিথিন আপনাকে বেশ ভালো সাপোর্ট দিবে 🙂
  • ধীরে ধীরে হাটবেন তাড়াহুড়া করবেন না আর ঝিরিতে বড় বড় পাথরে লাফ দিতে যাবেন না ছোট ছোট পা দিয়ে এগুনোর চেষ্টা করবেন শ্যাওলা জমে আছে এমন পাথর এড়িয়ে চলবেন এগুলো বেশ পিচ্ছিল থাকে একটু অসতর্কতা ভয়ানক বিপদ ডেকে আনতে পারে কিন্তু ।
  • কিছু ফাস্ট এইড নিয়ে নিতে পারেন যেন ব্যান্ডএইড ,মুভ স্পে এগুলো যেকোন সময় কাজে লাগতে পারে
  • ফুটবল খেলার এ্যাংলেট গুলো চিনেন না ? এগুলো পড়লে ট্রেকিং এ বেশ সাপোর্ট পাওয়া যায় গোড়ালীতে নিয়ে নিতে পারেন কাজে দিবে
  • অনেকে ঝোক ভয় পায় সেজন্য হালকা লবণ নিয়ে নিতে পারেন লবণ লাগিয়ে দেবার সাথে সাথে শরীর থেকে ঝোক নীচে পড়ে যায় ।।
  • পাহাড়ে বা ঝিরিতে কখনো দলছুট হবেন না দলনেতার কথা মেনে চলবেন ব্যাগ যত সম্ভব হালকা রাখবেন অযথা কাপড় চোপড় নিয়ে ব্যাগ ভারী করে নিজের কষ্ট বাড়াবেন না ।

ধন্যবাদ এগুলোই আসলে পরামর্শ এগুলো মেনে চললে আশা করি বেশ ভালোভাবে ঘুরে আসতে পারবেন 🙂 আর কোন কিছু জানতে স্বপ্নযাত্রার ফেইসবুক গ্রুপে পোস্ট দিতে পারেন 🙂

  • Tags

ভুটান বা নেপাল বাই রোডে যাবার জন্য ট্রানজিট ভিসা কিভাবে করবেন বিস্তারিত

ভারতীয় ট্রানজিট ভিসা হলো ভারতের উপর দিয়ে বা ভুখন্ড ইউজ করে অন্য কোন দেশে ভ্রমণ করতে যাওয়ার জন্য যে অনুমতি তাই হলো ট্রানজিট ভিসা 🙂 বাংলাদেশীরা সাধারণত ভুটান বা নেপাল ঘুরতে যাবার জন্য ভারতের ট্রানজিট ভিসা নিতে হয় এতে খুব কম খরচে ভুটান ঘুরে আসা যায় 🙂 ভারতের নরমাল ভিসার মতোই আবেদন করবেন ট্রানজিট ভিসার জন্য আবেদনের ৭-১০ দিনের মাথায় আপনাকে ১৫-৩০ দিন মেয়াদী ট্রানজিট ভিসা দেওয়া হবে ।। তবে নরমাল ট্যুরিস্ট ভিসাতে যত কাগজপত্র লাগে তার সাথে এক্সটা কিছু কাগজপত্র লাগে ট্রানজিট ভিসার জন্য ।। আসুন জানি ট্রানজিট ভিসার জন্য কি কি কাগজপত্র লাগে

  • অনলাইনে ভিসা ফর্ম পূরণ করে  তার প্রিন্ট কপি , । ভিসা ফর্ম পুরণের সময় ভিসা টাইপ ট্রানজিট দিবেন ও পোর্ট দিবেন ভুটানের জন্য বাই রোড চ্যাংরাবান্ধা /জঁয়গাও এবং নেপালের জন্য দিবেন চ্যাংরাবান্ধা/রানীগন্জ ।
  • সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডযুক্ত দুই ইঞ্চি বাই দুই ইঞ্চি ছবি, ফরমের সাথে আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিতে হবে
  • বাসে আসা যাওয়ার কনফার্ম টিকেট জমা দিতে হবে ট্রানজিট ভিসার ক্ষেত্রে সেক্ষেত্রে শ্যামলী বা এসআর পরিবহন বা মানিক বা পিংকি মানে যে পরিবহন বুড়িমারী পর্যন্ত যায় এমন  যেকোন পরিবহনের বুড়িমারী বর্ডার /শিলিগুড়ি পর্যন্ত আসা যাওয়ার টিকেট । যেহেতু কনফার্ম টিকেট কাটবেন বাসের সেহেতু ভ্রমণ তারিখ ও এম্বেসীতে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের সাথে দশ বারোদিন গ্যাপ রাখবেন কারণ জমা দেবার সাত আটদিন পর ভিসা দেওয়া হয় তাই বাসের টিকেটের তারিখ এর পরে হতে হবে । বুঝা গেছেতো ? বাসের টিকেটের ফটোকপিও জমা দিতে হবে অরজিনাল কপির সাথে তবে এক্ষেত্রে কাউন্টারগুলোতে বললে টিকেট অন্য ডেটে কেটে জাস্ট জমা দেবার জন্য ডেমো টিকেট হিসেবে ফাঁকা টিকেট এনে নিজের পছন্দমত ডেট বসিয়ে এম্বেসীতে জমা দিতে পারেন
  • বর্তমানে ভুটানে হোটেল রিজার্ভেশনের কাগজও দেখতে চায় ভারতীয় এম্বেসী ,তাই ভুটানে যে হোটেল বুকিং দিয়েছেন এর কাগজও জমা দিতে হবে এক্ষেত্রে অনলাইনে ভুটানের কোন হোটেলে বুকিং দেখিয়ে জমা দিতে পারেন বা এটাও কম্পিউটারেও বানিয়ে নিতে পারেন
  • পাসপোর্ট ও পাসপোর্টের ফটোকপি (পাসপোর্টের মেয়াদ সর্বনিম্ন ছয়মাস থাকতে হবে) আগে ইন্ডিয়ান ভিসা থাকলে তারও ফটোকপি লাগবে । পুরাতন পাসপোর্ট থাকলে সেটা জমা দিতে হবে হারিয়ে গেলে জিডি কপি জমা দিতে হবে
  • ন্যাশনাল আইডি বা জন্মসনদ এর ফটোকপি
  • বর্তমান ঠিকানার সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিল
  • চাকরিজীবিদের ক্ষেত্রে এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) ,ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স এবং ছাত্রছাত্রীদের আইডি কার্ডের ফটোকপি ।
  • ডলার এন্ড্রোসমেন্ট এর কপি অথবা ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর কপি ।

এসব কাগজপত্রগুলো নিয়ে সরাসরি দেশের যেকোন ভারতীয় ভিসা সেন্টারে জমা দিলেই ভিসা দিয়ে দিবে ।।

 

কিছু সর্তকতা : ভুটানের বর্ডার ওপেন বলে অনেকে ভারতীয় ট্রানজিট ভিসা না নিয়ে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়েই ভুটান ঘুরে্ আসতে চায় বা ঘুরে আসে ভুলেও এই কাজ করবেন না ,পরবর্তীতে ভারতীয় ভিসা নিতে গেলে  আপনি ট্রানজিট ভিসা ছাড়া বাই রোড ভুটান ঘুরে আসছেন এটা ভারতীয় ভিসা সেন্টার যখন বুঝতে পারবেন তখন আপনাকে ব্ল্যাক লিস্টেড করে দিবে এজন্য এই ভুল করবেন না 🙂

  • Tags

ভারতীয় ভিসায় নতুন পোর্ট সংযোজন করবেন যেভাবে

বহুদিনের অপেক্ষার পর  ভারতীয় এম্বেসী ভিসা থাকা অবস্হায় নতুন করে যেকোন পোর্ট এ্যাড করার সুযোগ দিয়েছে এটা ভ্রমণকারীদের জন্য খুবই আনন্দের সংবাদ ।। অনেক সময় দেখা যেত পোর্ট আছে ভিসায় চেংরাবান্ধা কিন্তু ভ্রমণকারী যেতে চায় ডাউকি পোর্ট দিয়ে কিন্তু সেটা সম্ভব ছিলোনা নতুন করে ভিসা নিতে হতো বা ভিসার মেয়াদ শেষ হলে আবার নতুন করে আবেদন করতে হতো কিন্তু এখন আর সে সমস্যা নেই । মাত্র ৩০০ টাকা দিয়ে এম্বেসীতে আবেদন করে নতুন করে যেকোন দুইটি পোর্ট আপনি এ্যড করে নিতে পারবেন আপনার বর্তমান ভিসাতেই 🙂  তাহলে আসুন জেনে নেই কিভাবে নতুন পোর্ট এ্যাড করবেন

প্রথমত কিছু নিয়ম জেনে নেই

  • -ভিসার মেয়াদ নুন্যতম ৩মাস থাকতে হবে নতুন পোর্ট এ্যাড করার জন্য ৩ মাসের কম ভিসার মেয়াদ হলে হবেনা
  • আপনি ভিসা করার পর একবার না গেলেও আপনি নতুন করে পোর্ট এ্যাড করার আবেদন করতে পারবেন
  • একই আবেদনে আপনি সর্বোচ্চ দুটি পোর্ট এ্যাড করে নেবার জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং  আবেদন করার ফী ৩০০ টাকা একটি পোর্ট এ্যাড করলেও ৩০০ টাকা দুইটি করলেও ৩০০ টাকা।। এই ৩০০ টাকা এম্বেসীর ভিতরে যখন ফর্ম জমা নিবে তখন ওদেরকে সরাসরি দিতে হবে ভিসা ফী এর মতো বাইরে বা আগে থেকে জমা দেবার প্রয়োজন নেই

যেভাবে নতুন পোর্টের জন্য আবেদন করবেন :

প্রথমে এই লিংক থেকে  নতুন পোর্ট এ্যাড করার আবেদন ফর্মটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে কলম দিয়ে নিজ হাতে পুরণ করে নিন । ফর্মটি পুরণ করা একদমই সহজ ।। ফর্মে নাম ঠিকানা ফোন নাম্বার বর্তমান ভিসার তথ্যএবং কোন দুটি পোর্ট এ্যাড করতে চান (একটি করতে চাইলে একটির নাম দিবেন  তবে যেহেতু দুইটি করার সুযোগ আছে তাহলে দুইটিই করে নেন )

এবার আপনার বর্তমান পাসপোর্ট এবং তার ফটোকপি ও  এক কপি ছবি (ছবি পাসপোর্ট বা ভিসা সাইজ কোন সমস্যা নাই একটা হলেই হলো) নিয়ে পুরণ করা ফর্মটি সহ সরাসরি ভারতীয় ভিসা সেন্টারে গিয়ে জমা দিয়ে আসুন ।

জমা দেবার সময়ই জানিয়ে দিবে কবে পাসপোর্ট ফেরত পাবে সাধারণত ৫-৭ দিনের মাঝেই নতুন পোর্ট এ্যাড করে পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে দেয় 🙂

ভারতীয় ভিসা সেন্টারে সপ্তাহে ৫দিন রবি থেকে বৃহষ্পতিবার সকাল আটটা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত জমা দিতে পারবেন ।।

 

একদমই সহজ তারপরও কোন সমস্যা মনে হলে স্বপ্নযাত্রার ফেইসবুক গ্রুপে পোস্ট দিতে পারেন আমরা সমাধান করার চেষ্টা করবো

  • Tags
Facebook
YouTube