শিলং ভ্রমণের গাইডলাইন

শিলং কে বলা হয় প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড ।। সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়েই এই নামের বিশেষণে ভুষিত করা হয়েছিলো শিলং কে । শিলং পাহাড়ী সৌন্দর্য্যের এক লীলাভুমি । পাহাড়ের ভাজে ভাজে ঝর্ণার সৌন্দর্য্যের টানে প্রতি বছর হাজারো পর্যটক আসে এই শিলংকে দেখতে ।। আজকে আমি শিলং ভ্রমণের গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করবো ।

শিলং যাবার উপযুক্ত সময় কখন ?

শিলং যেহেতু পাহাড়র আর ঝর্ণার স্বর্গ সেহেতু শিলং যাবার শ্রেষ্ট সময় হচ্ছে বর্ষায় এসময় ঝর্ণাগুলো তার ভরা যৌবনের রুপ নিয়ে হাজির হয় । সে হিসে জুই জুলাই আগস্ট এ তিন মাস সেরা সময়ই বলা যায় তবে বর্ষার শেষের দিকে যেমন সেপ্টেম্বর অক্টোবরেও কিন্তু শিলং ঘুরে বেড়ানোর উপযুক্ত সময় এ সময় আকাশ পরিষ্কার থাকে আর ঝর্ণাগুলোতেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় ।। নভেম্বর ডিসেম্বরেও ঘুরতে পারেন তবে সেক্ষেত্রে ডাউকি সোনাংপেডাং ভিলেজে স্বচ্ছ পানি পাবেন তবে অন্যান্য ঝর্ণাতে খুব একটা পানি পাবেন না ।

শিলং যাবো কিভাবে :

শিলং যাবার জন্য সবচেয়ে ভালো বর্ডার হচ্ছে তামাবিল ডাউকি বর্ডার যা সিলেটে অবস্হিত । শিলং যাওয়াটা খুবই সহজ ,ঢাকা থেকে শ্যামলী হানিফ ইউনিক এনা গ্রিন লাইন লন্ডন এক্সপ্রেস যেকোন বাসে চলে যান সিলেটে সেখান থেকে একটা সিএনজি নিয়ে যেতে হবে জৈন্তাপুরের তামাবিল বর্ডারে । বর্ডার পার হয়ে ওপারে ছোট বড় গাড়ী পাবেন দুই থেকে তিন ঘন্টা সময় লাগবে একদম শিলং শহর পর্যন্ত ।

যারা বাই এয়ারে যেতে চান তাদের জন্য সরাসরো কোন ফ্লাইট নেই ঢাকা থেকে ,সেক্ষেত্রে ঢাকা থেকে কলকাতা তারপর সেখান থেকে গোহাটি এয়ারপোর্ট তারপর তিন ঘন্টার রাস্তা গোহাটি টু শিলং ।।

থাকবো কোথায় :

শিলং এ থাকতে পারেন পুলিশ বাজারে ,পুলিশ বাজার এবং এর আশেপাশেই গড়ে উঠেছে প্রচুর সংখ্যক হোটেল দেখেশুনে যেকোন একটাতে উঠে যেতে পারেন ।। এছাড়াও বিভিন্ন ট্যুরিস্ট স্পট যেমন চেরাপুন্জি এসব জায়গায়ও থাকার জায়গা রয়েছে তবে ভ্রমণে সুবিধা ও শপিং এর জন্য অধিকাংশ পর্যটক পুলিশ বাজারেই অবস্হান করে । বুকিং অনলাইনে দিতে পারেন যদি খুব রাশ সিজনে যান আর যদি নরমাল সময়ে যান গিয়েও হোটেল দেখে শুনে উঠতে পারেন তবে ফ্যামিলি নিয়ে গেলে আগে থেকে হোটেল বুক করে যাবার চেষ্টা করবেন । কাপল রুম হোটেল ভেদে ১৫০০-২৫০০ রুপির মধ্যে পাবেন । একটা কথা মনে রাখবেন তুলনামুলক হিসেবে শিলং এর হোটেল প্রাইচ একটু বেশিই মনে হয়েছে আমার কাছে ।

ঘুরে বেড়ানোর প্লানটা কেমন হতে  পারে ?

শিলং এ ঘুরে বেড়ানোর জন্য একটা স্প্যাম্পল ট্যুর প্লান করে দিলাম এটা ফলো করতে পারেন নিজের পছন্দমত কাস্টমাইজও করে নিতে পারেন 🙂

রাতের বাসে ঢাকা থেকে রওয়ানা হলে ভোরে সিলেট নামিয়ে দিবে সেখান থেকে একটা সিএনজি নিয়ে চলে যাবেন তামাবিল বর্ডারে 🙂 বর্ডারের সকাল কাজ শেষ করে গাড়ী রিজার্ভ করবেন এবং গাড়ীকে বলবেন যাবার সময় উমক্রেম ফলস ,বড়হিল ফলস (সিলেট থেকে যেটা দেখা যায়) ও পরিচ্ছন্ন গ্রাম ও রুট লিভিং ব্রিজ দেখে তারপর যাবেন। সবগুলো দেখে শিলং পৌছাতে পৌছাতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে 🙂 তবে বর্ডারে বেশি দেরি হয়ে গেলে কোন কারণে সেক্ষেত্রে কোন না কোন স্পট বাদ দিতে হবে না হয় সন্ধ্যার মধ্যে শিলং পৌছাতে পারবেন না ।।

দ্বিতীয় দিন সকালে উঠে গাড়ী নিয়ে ঘুরে দেখতে পারেন চেরাপুন্জির এর এই স্পট গুলো চেরাপুন্জি ভিউ পয়েন্ট , Nohkalikai falls,এলিফেন্ট ফলস,মৌসমি কেইভ,পার্ক,সেভেন সিস্টার ফলস ইত্যাদি । সবগুলো দেখে আবার শিলং  আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে ।

তৃতীয় দিন যেতে পারেন সকালে উঠেই লাইটলুম ,খুবই সুন্দর জায়গা ভিডিওটি দেখতে  পারেন ধারণা পাবেন https://www.youtube.com/watch?v=TMo6eMukjAs& লাইটলুম ঘুরে এসে দেখতে  পারেন লেক ,ডন ভসকো মিউজিয়াম ,উমিয়াম লেক ইত্যাদি । এগুলো দেখে বিকালের মধ্যেই ফিরে আসতে  পারবেন হোটেলে ।। বাকী সময়টা শপিংয়ে কাটিয়ে দিতে  পারেন 🙂

চতুর্থ দিন উঠে প্রথমে যাবেন কারাংসুরি ফলস (পোস্টের ছবির ঝর্ণাটি ) কারাংসুরি জম্পেশ গোসল দিয়ে সেখান থেকে মাত্র এক ঘন্টা লাগে চলে আসবেন সোনাংপেডাং ভিলেজ এ এখানে সব দেখে চাইলে নৌকা নিয়ে নদীতে ঘুরতে পারেন গোসল করতে পারেন সোনাং পেডাং এর নদীটিই বাংলাদেশের জাফলং দিয়ে প্রবেশ করেছে 🙂 বিকাল নাগাদ সোনাংপেডাং এ কাটিয়ে সোনাংপেডাং থেকে মাত্র আধাঘন্টা দুরেই ডাউকি তামাবিল বর্ডার হয়ে বের হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে সিলেট থেকে রাতের বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা ও পরদিন ভোরে এসে ঢাকা নামবেন 🙂

এক্ষেত্রে উল্লেখ করা যায় যে যারা ট্রেকিং পছন্দ করেন তারা একদিন বাড়িয়ে ঘুরে আসতেন পারেন নংরিয়াত ভিলেজে অথবা চাইলে তৃতীয় দিনের সাইটসিন বাদ দিয়েও এখানে যেতে পারেন এবং সেখানে পাবেন ন্যাচারল সুইমিং পুল এবং ডাবল ডেকার রুট লিভিং ব্রিজ তবে এখানে পুরো একদিন লাগবে ভোরে শিলং থেকে রওয়ানা হয়ে সারাদিন ঘুরে আবার সন্ধ্যায় শিলং ফিরতে পারবেন 🙂 https://www.youtube.com/watch?v=YzSAneMSP18& ভিডিওটি দেখুন ধারণা পাবেন 🙂

আশা করি শিলং প্লান সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা পেয়ে যাবেন তারপরও কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টস করুন।

Facebook
YouTube