ভুটান বা নেপাল বাই রোডে যাবার জন্য ট্রানজিট ভিসা কিভাবে করবেন বিস্তারিত

ভারতীয় ট্রানজিট ভিসা হলো ভারতের উপর দিয়ে বা ভুখন্ড ইউজ করে অন্য কোন দেশে ভ্রমণ করতে যাওয়ার জন্য যে অনুমতি তাই হলো ট্রানজিট ভিসা 🙂 বাংলাদেশীরা সাধারণত ভুটান বা নেপাল ঘুরতে যাবার জন্য ভারতের ট্রানজিট ভিসা নিতে হয় এতে খুব কম খরচে ভুটান ঘুরে আসা যায় 🙂 ভারতের নরমাল ভিসার মতোই আবেদন করবেন ট্রানজিট ভিসার জন্য আবেদনের ৭-১০ দিনের মাথায় আপনাকে ১৫-৩০ দিন মেয়াদী ট্রানজিট ভিসা দেওয়া হবে ।। তবে নরমাল ট্যুরিস্ট ভিসাতে যত কাগজপত্র লাগে তার সাথে এক্সটা কিছু কাগজপত্র লাগে ট্রানজিট ভিসার জন্য ।। আসুন জানি ট্রানজিট ভিসার জন্য কি কি কাগজপত্র লাগে

  • অনলাইনে ভিসা ফর্ম পূরণ করে  তার প্রিন্ট কপি , । ভিসা ফর্ম পুরণের সময় ভিসা টাইপ ট্রানজিট দিবেন ও পোর্ট দিবেন ভুটানের জন্য বাই রোড চ্যাংরাবান্ধা /জঁয়গাও এবং নেপালের জন্য দিবেন চ্যাংরাবান্ধা/রানীগন্জ ।
  • সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডযুক্ত দুই ইঞ্চি বাই দুই ইঞ্চি ছবি, ফরমের সাথে আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিতে হবে
  • বাসে আসা যাওয়ার কনফার্ম টিকেট জমা দিতে হবে ট্রানজিট ভিসার ক্ষেত্রে সেক্ষেত্রে শ্যামলী বা এসআর পরিবহন বা মানিক বা পিংকি মানে যে পরিবহন বুড়িমারী পর্যন্ত যায় এমন  যেকোন পরিবহনের বুড়িমারী বর্ডার /শিলিগুড়ি পর্যন্ত আসা যাওয়ার টিকেট । যেহেতু কনফার্ম টিকেট কাটবেন বাসের সেহেতু ভ্রমণ তারিখ ও এম্বেসীতে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের সাথে দশ বারোদিন গ্যাপ রাখবেন কারণ জমা দেবার সাত আটদিন পর ভিসা দেওয়া হয় তাই বাসের টিকেটের তারিখ এর পরে হতে হবে । বুঝা গেছেতো ? বাসের টিকেটের ফটোকপিও জমা দিতে হবে অরজিনাল কপির সাথে তবে এক্ষেত্রে কাউন্টারগুলোতে বললে টিকেট অন্য ডেটে কেটে জাস্ট জমা দেবার জন্য ডেমো টিকেট হিসেবে ফাঁকা টিকেট এনে নিজের পছন্দমত ডেট বসিয়ে এম্বেসীতে জমা দিতে পারেন
  • বর্তমানে ভুটানে হোটেল রিজার্ভেশনের কাগজও দেখতে চায় ভারতীয় এম্বেসী ,তাই ভুটানে যে হোটেল বুকিং দিয়েছেন এর কাগজও জমা দিতে হবে এক্ষেত্রে অনলাইনে ভুটানের কোন হোটেলে বুকিং দেখিয়ে জমা দিতে পারেন বা এটাও কম্পিউটারেও বানিয়ে নিতে পারেন
  • পাসপোর্ট ও পাসপোর্টের ফটোকপি (পাসপোর্টের মেয়াদ সর্বনিম্ন ছয়মাস থাকতে হবে) আগে ইন্ডিয়ান ভিসা থাকলে তারও ফটোকপি লাগবে । পুরাতন পাসপোর্ট থাকলে সেটা জমা দিতে হবে হারিয়ে গেলে জিডি কপি জমা দিতে হবে
  • ন্যাশনাল আইডি বা জন্মসনদ এর ফটোকপি
  • বর্তমান ঠিকানার সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিল
  • চাকরিজীবিদের ক্ষেত্রে এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) ,ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স এবং ছাত্রছাত্রীদের আইডি কার্ডের ফটোকপি ।
  • ডলার এন্ড্রোসমেন্ট এর কপি অথবা ব্যাংক স্টেটমেন্ট এর কপি ।

এসব কাগজপত্রগুলো নিয়ে সরাসরি দেশের যেকোন ভারতীয় ভিসা সেন্টারে জমা দিলেই ভিসা দিয়ে দিবে ।।

 

কিছু সর্তকতা : ভুটানের বর্ডার ওপেন বলে অনেকে ভারতীয় ট্রানজিট ভিসা না নিয়ে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়েই ভুটান ঘুরে্ আসতে চায় বা ঘুরে আসে ভুলেও এই কাজ করবেন না ,পরবর্তীতে ভারতীয় ভিসা নিতে গেলে  আপনি ট্রানজিট ভিসা ছাড়া বাই রোড ভুটান ঘুরে আসছেন এটা ভারতীয় ভিসা সেন্টার যখন বুঝতে পারবেন তখন আপনাকে ব্ল্যাক লিস্টেড করে দিবে এজন্য এই ভুল করবেন না 🙂

  • Tags

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
YouTube